ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ার পূর্বাভাস দেয়ায় গতকাল বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম কমেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর দুর্বল চাহিদার কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার ৭১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪১ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ কম। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ সেন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ কমে হয়েছে ৬২ ডলার ৬৭ সেন্ট।
আইইএর সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর আগামী বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেড়ে দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল হতে পারে। এর আগে সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল দৈনিক ২১ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বাড়ার। ওপেক প্লাস উত্তোলন বাড়ালেও চলতি বছর ও আগামী বছর বৈশ্বিক সরবরাহ বৃদ্ধির নেতৃত্ব দেবে ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোই।
তবে আইইএ তাদের পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার কথা বলেছে। দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়ায় এ বছর দৈনিক চাহিদা ৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল সাত লাখ ব্যারেল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আগামীকাল আলাস্কায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার মার্কিন ও রুশ প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। যা জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পিভিএম অয়েল বিশ্লেষক টামাস ভার্গার বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি থেকে রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা কম বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন। এতে রাশিয়ার জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং বাজারে কোনো বড় অস্থিরতা তৈরি হবে না।’
দীর্ঘমেয়াদি বাজারের জন্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। ওপেক তাদের মাসিক প্রতিবেদনে আগামী বছরের জন্য বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক প্লাস-বহির্ভূত দেশগুলোর সরবরাহ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি পণ্যটির বাজারকে আরো সংহত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে থাকতে পারে। যদি এমনটা হয়, তাহলে ২০২০ সালের পর এটিই হবে সর্বনিম্ন গড় মূল্য। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে ইআইএ।